নিজস্ব প্রতিবেদক
তিন দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ: সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনি আন্দোলনের পরিচিত মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা পড়া একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুদকের সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে
রেকর্ডসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাচারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই এবং আজারবাইজানের নাম উঠে এসেছে। অনুসন্ধানকারী সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেন, শেল কোম্পানি এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থপথ ব্যবহার করে বিদেশে বিনিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আরও একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পে ব্যয় দেখানো এবং বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অতিরিক্ত বিল প্রদর্শন এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে নথিপত্র পরীক্ষা করছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু একজন নন, বিদায়ী সরকারের আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, সঠিক তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। তাদের মতে, প্রাথমিক তথ্য থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত, একই সঙ্গে যেন কেউ অযথা হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলছেন, ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতা ছাড়ার পর—সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সারমর্ম: সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

