প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
একই স্কুলে বারবার ভর্তি ফি: অভিভাবকদের উপর অযৌক্তিক অর্থচাপ
ভর্তি ফি’র নামে নীরব শোষণ—কর্তৃপক্ষ কি দেখছেন না? শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই কথাটি আমরা বহুবার শুনেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেই দেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি’র নামে শুরু হয় এক অদৃশ্য শোষণ। একই বিদ্যালয়ে, একই শ্রেণিতে, একই শিক্ষার্থী—তবুও প্রতিবছর নতুন করে ‘ভর্তি ফি’ আদায় করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—এর যৌক্তিকতা কোথায়? অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি থাকার পরও নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
। অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ আদায়ের পেছনে নেই কোনো স্বচ্ছ হিসাব কিংবা লিখিত ব্যাখ্যা। ফলে বিষয়টি ক্রমেই রূপ নিচ্ছে নীরব চাঁদাবাজিতে। একাধিক অভিভাবক জানান, ভর্তি ফি না দিলে সন্তানের আসন বাতিল বা হয়রানির আশঙ্কা দেখানো হয়। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম মানসিক ও আর্থিক চাপে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা চালিয়ে নেওয়াই হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। সারমর্ম একই প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ভর্তি ফি আদায় নৈতিক, শিক্ষাগত ও নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এটি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং অভিভাবকদের ওপর অযথা অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলো কি এই অনিয়ম সম্পর্কে অবগত নন? নাকি দেখেও না দেখার ভান করছেন? নিয়মনীতি থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ না হলে এসব নির্দেশনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ—বিশেষ করে জেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের— এই বিষয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রতিবাদের ভাষা দরকার এই অনিয়ম বন্ধে অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ অপরিহার্য। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। শেষ কথা শিক্ষা কখনোই বাণিজ্য হতে পারে না। ভর্তি ফি’র নামে এই নীরব শোষণ ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ হোক—এটাই আজ সময়ের দাবি।

