মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
এসএসসিতে মৌলভীবাজারে পাসের হার ৫৫.৯২%
মেধার স্বাক্ষর রেখে ৭২৫ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনের সাফল্যের মধ্যেও চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে মৌলভীবাজারে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেলায় এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ১০৩ জন। ফলে জেলার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা সন্তোষজনক হলেও তুলনামূলক কম পাসের হার নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ৭২৫ জনের জিপিএ-৫ জেলার বিভিন্ন শ
িক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ৭২৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলা সদর ও পৌর এলাকার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে থাকলেও শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিশেষ করে কুলাউড়া ও বড়লেখার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করেছে। কোথাও কোথাও শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার সাফল্যও এসেছে। গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার কিছু প্রতিষ্ঠান থেকেও ভালো ফলাফল আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। চা-বাগান এলাকায় মিশ্র ফল শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় ফলাফলে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চা-বাগান এলাকার অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করেছে। তাদের কেউ কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তবে এসব এলাকায় শিক্ষার সুযোগ, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও পারিবারিক নানা বাস্তবতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইংরেজি-গণিতে দুর্বলতা সার্বিক পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ। বিশেষ করে কিছু উপজেলা ও গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতি এবং নিয়মিত অনুশীলনের অভাব ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে শিক্ষার মান বিচার করা ঠিক হবে না। কতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, কতজন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়ে পড়েছে এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার দাবি ফলাফল বিশ্লেষণ করে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ক্লাস, বিষয়ভিত্তিক বিশেষ পাঠদান, শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সহায়তা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। আনন্দের সঙ্গে নতুন প্রত্যাশা ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। কৃতী শিক্ষার্থীরা বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়। অনেক শিক্ষার্থী তাদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদানের কথা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তবে আনন্দের এই আবহের মধ্যেই জেলার সামগ্রিক পাসের হার নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে পাসের হার যেমন বাড়ানো সম্ভব, তেমনি জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও আরও বাড়বে। মৌলভীবাজারের এবারের এসএসসি ফলাফল তাই একদিকে ৭২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার শিক্ষাব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। এখন প্রয়োজন সাফল্যের কারণগুলো ধরে রাখা এবং দুর্বলতার জায়গাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। তাহলেই আগামী বছরের ফলাফলে মৌলভীবাজার আরও শক্ত অবস্থানে উঠে আসতে পারে।

