মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করল ইয়ামিম আহমেদ নাবিল
শিক্ষাই একটি জাতির অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। আর সেই শিক্ষার প্রথম ধাপেই মেধার স্বাক্ষর রেখে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে মৌলভীবাজারের কৃতি শিক্ষার্থী ইয়ামিম আহমেদ নাবিল। ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে ট্যালেন্টপুল (Talentpool) বৃত্তি অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মমরুজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায়
অংশগ্রহণ করে ইয়ামিম আহমেদ নাবিল ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে। প্রাথমিক স্তরে এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। ইয়ামিমের এই কৃতিত্ব শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তার বিদ্যালয়, পরিবার এবং এলাকার জন্যও গর্বের বিষয়। অল্প বয়সেই অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে সে প্রমাণ করেছে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। ইয়ামিম আহমেদ নাবিলের পিতা মো. আবু সাদিক এবং মাতা মোছাম্মৎ মিলি বেগম। তাদের স্নেহ, অনুপ্রেরণা ও নিরলস সহযোগিতা সন্তানের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই ইয়ামিম পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী এবং নতুন কিছু শেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। খেলাধুলার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস তাকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজাপুর বড় বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইয়ামিম এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে অন্যতম। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও সে যেন আরও বড় সাফল্য অর্জন করে এবং দেশ ও জাতির জন্য নিজেকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে—সেই প্রত্যাশাই তাদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ইয়ামিমের এ অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইয়ামিমের এই অর্জন বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের পথ দেখাবে। শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহ দেওয়া হলে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়। বৃত্তি অর্জনের মতো স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আরও মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে। এদিকে ইয়ামিমের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ইয়ামিমের এই অর্জন এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ইয়ামিমের পরিবার সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের সন্তান যেন ভবিষ্যতেও পড়াশোনায় আরও ভালো ফলাফল করতে পারে এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এ জন্য তারা সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন। শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ইয়ামিম আহমেদ নাবিলের ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার। তার এই অর্জন শুধু একটি বৃত্তি লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আগামী দিনের আরও বড় স্বপ্ন পূরণের পথে এক দৃঢ় পদক্ষেপ। সকলের প্রত্যাশা, মেধা, সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মৌলভীবাজার এবং বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

