মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একটি গ্রামীণ সড়ক (কোড নং-৬৫৮৭৪৫০৪১) সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের যথাযথ তদারকির অভাবের অভিযোগ উঠেছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ইউনি ব্লক দেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঠিকাদারের নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন
কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হলেও কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ব্লক দেবে যায় এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত গর্তের গভীরতা ও বিস্তৃতি বাড়ছে, যা পথচারী, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং অন্যান্য যানবাহনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য জনগণের নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে সেই উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয় করে নির্মিত সড়ক যদি অল্প সময়েই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অভিযোগ রয়েছে, সংস্কারকাজের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়টি স্থানীয়রা লক্ষ্য করেছিলেন। পুরোনো সড়কের হেজিংয়ের ইট খুলে নেওয়ার পর তা যথাযথভাবে পুনঃস্থাপন করা হয়নি। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয়ভাবে ইট বসানো হয়নি, আবার অনেক অংশে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ব্লক স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এছাড়া সড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় মান অনুযায়ী মাটি ভরাট না করে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, পলি মাটি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে রাস্তার কিনারা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পাশ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, ইউনি ব্লক স্থাপনের আগে প্রকৌশল নীতিমালা অনুযায়ী যে পরিমাণ ও মানের বালির স্তর ব্যবহার করার কথা, তা অনুসরণ করা হয়নি। এর পরিবর্তে অনেক স্থানে পলি মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ব্লকের নিচে পর্যাপ্ত ভিত্তি তৈরি না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ উঁচু-নিচু হয়ে গেছে এবং ব্লক দেবে যেতে শুরু করেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের পর সাধারণত দীর্ঘ সময় নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় না। তাই নিম্নমানের কাজের কারণে শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও তদারককারী কর্মকর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যথাযথ তদারকি থাকলে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা প্রকৌশলগত ত্রুটি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাই তারা একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কারিগরি তদন্ত পরিচালনা, নির্মাণকাজের মান যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিজস্ব অর্থায়নে সম্পূর্ণ সড়ক পুনরায় মানসম্মতভাবে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলার সুযোগ থাকা উচিত নয়। উন্নয়ন যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে জনগণের উপকারে আসে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

