মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
৩ বছরের মধ্যে মেডিকেল কলেজ, চালু হচ্ছে শমশেরনগর বিমানবন্দ!নাসের রহমান
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, উন্নয়নের অপূর্ণ স্বপ্ন আর নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে পর্যটন, চা ও প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজার। জেলার মানুষের বহুদিনের দুটি প্রধান দাবিএকটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং শমশেরনগর বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু এবার বাস্তবতার পথে এগোচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে যখন জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই জেলার উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গু
রুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য প্রধানমন্ত্রীর জনসভার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দুটি প্রাণের দাবি ছিল একটি মেডিকেল কলেজ এবং শমশেরনগর বিমানবন্দরের পুনরায় কার্যক্রম চালু করা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যেই আমরা মৌলভীবাজার মেডিকেল কলেজের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে পাব। স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত মৌলভীবাজার জেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় জনগণ, চিকিৎসক সমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। বর্তমানে উচ্চতর চিকিৎসা সেবার জন্য রোগীদের সিলেট কিংবা রাজধানী ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি তিনটিই বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু স্বাস্থ্যসেবার মানই উন্নত হবে না, বরং জেলার অর্থনীতি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এমপি নাসের রহমানের ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ জেলার আরেকটি বহুল আলোচিত বিষয় শমশেরনগর বিমানবন্দর। একসময় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত এই বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় এটি আবারও সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এম নাসের রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক আগ্রহ এবং সদিচ্ছার কারণেই বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা ও অগ্রগতি যাচাই করতে আগামী ১৯ জুন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মৌলভীবাজার সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাত্র দুই দিনের মাথায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৭ বছর বড় উন্নয়ন হয়নি নিজের বক্তব্যে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের কথাও স্মরণ করেন এমপি নাসের রহমান। তিনি বলেন, মৌলভীবাজার একসময় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত প্রায় ১৭ বছরে জেলার বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজে মৌলভীবাজার সফরে আসছেন, যা জেলার প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বেরই প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি আগামী ১৭ জুনের জনসভাকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন জনসভা সফল করতে। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইতোমধ্যে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অতিথি অভ্যর্থনা এবং জনসমাগম ব্যবস্থাপনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি মৌলভীবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনার নতুন রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ এবং শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের পথে এগোলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও মৌলভীবাজার আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে আসন্ন জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে মৌলভীবাজার প্রবেশ করবে সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির এক নতুন যুগে।

