মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
কেয়ারগিভার ভিসার ফাঁদে ২৬ লাখ টাকা! বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা
বিদেশে কেয়ারগিভার ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিক ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেনের নথি, চেক, মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে কেয়ারগিভার ভিসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। উন্নত দেশে চাকরির সুযোগ
ও আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কারও ভিসা সম্পন্ন হয়নি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতে ভিসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা বাকি, কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন—এ ধরনের নানা ব্যাখ্যা দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তারা অর্থ ফেরতের দাবি জানালে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, টাকা ফেরতের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি প্রভাবশালী মহলের নাম উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেকেই প্রথম দিকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে কিংবা জমিজমা বিক্রি করে অর্থ জোগাড় করেছিলেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কিন্তু প্রতিশ্রুত ভিসা না পেয়ে এবং টাকা ফেরত না পেয়ে তারা চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। এদিকে ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, জেলা বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কিংবা দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ফেলতে বিভিন্ন মহল সক্রিয় রয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা ন্যায়বিচারের আশায় আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে বিশ্বাস করেন। তাদের মতে, অভিযোগের পক্ষে থাকা ব্যাংক নথি, চেক এবং অন্যান্য প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে ঘটনার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরি বা ভিসা দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, দেশে বিদেশগামী কর্মীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বিদেশে চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট, কেয়ারগিভার ভিসা কিংবা স্থায়ী বসবাসের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা এবং সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ঘটনায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে মৌলভীবাজারের সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, কোনো প্রভাব বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন। (বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে নির্ধারক হবে।)

