মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে টমটমে নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় ধর্ষণের হুমকি ও হামলার চেষ্টা
মৌলভীবাজার শহরে চলন্ত টমটমে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টমটমের চালক ওই শিক্ষার্থীর কাছে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দাবি করেন এবং তিনি এর প্রতিবাদ করায় অশালীন আচরণ করেন। পরে বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ করেন। এ সময় চালক ও তার সহযোগীরা ওই নারী শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি, ধাক্কাধাক্কি এবং হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত টমটমটি জব্দ করেছে ট্রাফি
ক পুলিশ। এ ঘটনায় দুই টমটম চালকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন—টমটম চালক নেছার আহমেদ ও তার সহযোগী কালু মিয়া। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ওই নারী শিক্ষার্থী মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের সামনে থেকে বিসিএস কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নেছার আহমেদের টমটমে ওঠেন। টমটমটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর মৌলভীবাজার ফ-১১-০৯৪৭। অভিযোগে বলা হয়, টমটমটি চৌমোহনা পয়েন্টের লোটো শোরুমের সামনে পৌঁছালে অন্যান্য যাত্রীরা নেমে যান। এ সময় টমটমে ওই শিক্ষার্থী একা হয়ে পড়লে চালক নেছার আহমেদ তার কাছে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর চান। শিক্ষার্থী এতে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় চালক তার সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বামী মো. হুমায়ূন রহমান বাপ্পীকে মোবাইল ফোনে জানান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের অবহিত করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাফিক পুলিশ টমটম চালকের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহনের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখতে চায়। অভিযোগ অনুযায়ী, চালক সেগুলো দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে ট্রাফিক পুলিশ টমটমটির বিরুদ্ধে মামলা করে সেটি জব্দ করে ট্রাফিক অফিসে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, টমটমটি জব্দ করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চালক নেছার আহমেদ মোবাইল ফোনে তার সহযোগী কালু মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে রাজমহল ফুডসের সামনে ওই নারী শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে ঘিরে ধরে তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ধাক্কাধাক্কি এবং ধর্ষণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ওই শিক্ষার্থী ও তার স্বামী আত্মরক্ষার্থে নিকটস্থ ‘সুপার ড্রাগ’ নামের একটি ওষুধের দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। অভিযোগে বলা হয়, সেখানেও অভিযুক্তরা তাদের পিছু নিয়ে দোকানের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য ও স্থানীয় পথচারীরা তাদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নারী শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় নারী শিক্ষার্থীর স্বামী মো. হুমায়ূন রহমান বাপ্পী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে নেছার আহমেদ ও কালু মিয়ার নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টমটমটি বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জনসম্মুখে একজন নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার স্বামীকে হুমকি এবং হামলার চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর এখন স্থানীয়দের মূল প্রত্যাশা—অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে শহরের গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও চালকদের আচরণ নিয়েও কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে।

