মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আখাইলউড়া সহ একাধিক এলাকায় হুমকিতে বসতঘর, ফসলি জমি ও জনপদ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলউড়া ইউনিয়ন-এর ৪নং ওয়ার্ডে মনু নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতঘর, ফসলি জমি ও জনপদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী মানুষের মধ্যে এখন চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রতিদিন একটু একটু করে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বহু বছরের গড়া বসতভিটা, ফলদ গাছ, আবাদি জমি ও পারিবারিক স্মৃতি। কেউ ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মনু নদী থেকে লিজবিহীনভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লিজকৃত নির্
ধারিত এলাকার বাইরেও শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন এবং ৮ ইঞ্চি পাইপ ব্যবহার করে ব্যাপক হারে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং স্রোতের চাপ সরাসরি নদী পাড়ে গিয়ে আঘাত করছে। যার ফলে দ্রুতগতিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, আগে বর্ষা মৌসুমে কিছু ভাঙন দেখা গেলেও বর্তমানে বছরজুড়েই নদী পাড় ঝুঁকিতে থাকে। যেসব জায়গা আগে নিরাপদ ছিল, সেখানেও এখন বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছে। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের নিয়ে অনেকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চিন্তা করছেন। অন্যদিকে, বালুমহাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, নদী খনন, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে বালু উত্তোলন প্রয়োজন। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বালু অপসারণ করলে নদীর গভীরতা বাড়ে এবং জলাবদ্ধতা কমে। তবে সচেতন মহলের বক্তব্য, নদী খনন ও অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন এক বিষয় নয়। পরিবেশগত জরিপ, নির্দিষ্ট সীমা, সঠিক গভীরতা ও প্রশাসনিক তদারকি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম নদীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এভাবে চলতে থাকলে মনু নদী পাড়ের মানুষের বসতঘর ও ফসলি জমি আরও হারাতে হবে। তখন এই ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার কে নেবে? গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পাশে কে দাঁড়াবে? ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লোকসান কীভাবে পূরণ হবে? তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি মনু নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য নতুন করে লিজ দেওয়া হয়, তবে অবশ্যই সরেজমিন পরিদর্শন করে লিজ প্রদান করা প্রয়োজন। কারণ অভিযোগ রয়েছে, এক জায়গার নামে লিজ দেওয়া হলেও বাস্তবে অন্য জায়গা কিংবা ভিন্ন মৌজায় বালু উত্তোলন করা হয়। এতে যেমন সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়, তেমনি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শুধু আখাইলউড়া নয়, আখালকুড়া সহ নদী তীরবর্তী আরও একাধিক এলাকার বেহাল অবস্থা দেখা দিতে পারে। বসতভিটা, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়বে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ভাঙনরোধে জরুরি উদ্যোগ এবং বৈজ্ঞানিক নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে বিস্তীর্ণ জনপদ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

