মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে পুলিশের দুর্ধর্ষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পীর আজাদ’ গ্রেফতার
মৌলভীবাজার জেলায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আজাদ মিয়া ওরফে ‘পীর আজাদ’ (৪২) অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হিলালপুর এলাকার বাসিন্দা পীর আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, অ
স্ত্রসহ একাধিক গুরুতর মামলার তথ্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় অন্তত ১০টি গ্রেফতারি পরোয়ানা বিচারাধীন অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা পীর আজাদ সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে ধরতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ গত ২৭ এপ্রিল থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, সোর্স তথ্য যাচাই এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে অবশেষে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর বুধবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই চারদিক ঘিরে ফেলে বিশেষ টিম। পরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাকে আটক করা সম্ভব হয়। অভিযানটি পরিচালিত হয় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সার্বিক নির্দেশনায়। এতে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের। অভিযানে সরাসরি অংশ নেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলামসহ এসআই হিরণ কুমার বিশ্বাস, এসআই জয়ন্ত সরকার, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমান, এএসআই জাহিদুর রহমান এবং পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস দল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীর আজাদের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হিলালপুরসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার নাম ঘিরে নানা আতঙ্ক, ভয়ভীতি ও অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন অনেকে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন দুর্ধর্ষ ও পরিকল্পিত অভিযান প্রমাণ করে অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের এ সফল অভিযানে জনমনে আস্থা আরও বেড়েছে।

