মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ন্যায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মো. ভিপি মিজানুর রহমান মিজান । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেল
া পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শামীমা খন্দকার , জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. মাসুম হোসেন , সাঁটলিপিকার মলয় কান্ত দেবনাথ সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ভিপি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ যেমন পরিবেশকে সুরক্ষা দেয়, তেমনি মানুষের খাদ্য, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় প্রতি বছর ৫ কোটি করে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, প্রতিটি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তা পরিণত বৃক্ষে রূপ নেয় এবং পরিবেশের জন্য কার্যকর অবদান রাখতে পারে। জানা গেছে, সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার বৃহৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী সবুজায়ন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ১৪৯টি উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি পরিণত গাছ যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে, তেমনি মাটির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ আরও সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ পরিবেশ উপহার পাবে।

