রিয়াজ উদ্দিন
মৌলভীবাজারে তেলের সংকট: সীমিত বিক্রি, জনদুর্ভোগ চরমে
মৌলভীবাজারে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে “তেল নেই” লেখা পোস্টার টানিয়ে রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেখানে কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে ১০০ টাকার, আবার কোথাও ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে পরিবহন চালক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ সবাই বিপাকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের পর্যাপ্ত
মজুদ না থাকা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ খাতে সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে সংকটের সময় সাধারণ মানুষকেই এর মূল ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। যদি এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, উৎপাদন খাত এবং সার্বিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, শুধু “তেল নেই” বলে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি মজুদ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জনসাধারণ আশা করছেন, এমন একটি কার্যকর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করবে এবং জনগণের ন্যূনতম প্রয়োজন নিশ্চিত করবে। অনেকেই এমন মন্তব্য করছেন যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সত্যিকারের দূরদর্শী নেতৃত্বসম্পন্ন কোনো সরকার ক্ষমতায় আসেনি। এছাড়াও অনেকে প্রকাশ্যে বলছেন, ভবিষ্যতের দিকেও তেমন আশার আলো খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, আগামী ১০০ বছরেও এমন দূরদর্শী সরকার আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসে না কেন, ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে দুর্নীতি বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তার লাভ করে এবং তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব দেখা যায়। সমাজের একটি অংশ মনে করছে, এই চক্র থেকে বের হতে না পারলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো বারবার সংকটে পড়বে এবং সাধারণ মানুষই এর প্রধান ভুক্তভোগী হয়ে থাকবে।

