প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
পানি সংকট ও মানুষের অবহেলায় হারাচ্ছে শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতির অপার রূপ
ভূমিকা পর্যটনের স্বর্গশহর শ্রীমঙ্গল তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য সুপরিচিত। চা–বাগান, পাহাড়ি সবুজ এবং নীরব প্রকৃতির মাঝেই মির্জাপুরের লাল শাপলা বিল বহু বছর ধরে ছিল পর্যটকদের মোহের কেন্দ্রবিন্দু। বর্ষা-শরতের মৌসুমে লাল শাপলার অপার সৌন্দর্য চোখে পড়লেই মন ভরে যেত দর্শনার্থীদের। কিন্তু আজ সেই বিল সংকটে—পানি কম, ফুল ভাঙা, দুর্ব্যবস্থাপনা আর বাড়তে থাকা মানবিক অবহেলায় বিলটি ক্রমেই হারাচ্ছে তার চিরচেনা রূপ। প্রকৃতির এই রত্নকে রক্ষা করতে এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। মূল প্রতিবেদন শনিবার (৬ ডিস
েম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়—বিলে পানির পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। পানির অভাবে শাপলার গোড়ায় কাদা জমে রয়েছে, ফলে ফুল সঠিকভাবে ফুটছে না। কোথায় কোথায় পানির পরিবর্তে কাদা প্রকাশ পাচ্ছে—যা শাপলার জীবনধারার জন্য বড় হুমকি। দর্শনার্থীদের অসচেতন আচরণেও পরিস্থিতি ভীতিকর হয়ে উঠছে। অনেকেই ছবি তোলার জন্য শাপলা গাছ ভেঙে ফেলছেন, ফুল ছিঁড়ে হাতে নিচ্ছেন—যা শুধু বিলের বর্তমান মৌসুম নয়, ভবিষ্যত মৌসুমেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। স্থানীয়দের অভিযোগ—পর্যটন ব্যবস্থাপনা না থাকায়, শাপলা রক্ষায় কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই। ফলে এই বিলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দর্শনার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা মৌলভীবাজার থেকে ঘুরতে আসা খলিলুর রহমান বলেন— “ভিডিও দেখে যে সৌন্দর্য দেখতে চেয়েছিলাম, তা বাস্তবে পাইনি। পানি কম, অনেক ফুল ভাঙা—মানুষ নিজেরাই নষ্ট করছে। খুবই হতাশাজনক।” আরেক দর্শনার্থী মঞ্জুর খান বলেন— “এটা এত সুন্দর জায়গা, কিন্তু রক্ষা করার কোনো নিয়ম-কানুন নেই। কিছু সাইনবোর্ড বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে মানুষ সচেতন হতো।” প্রকৃতিপ্রেমীদের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের মতে— বিলে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা জরুরি ফুল ছিঁড়ে নেওয়া ও গাছ ভাঙার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন দর্শনার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা উচিত তাদের মতে, প্রকৃতির এই অনন্য সম্পদ রক্ষা করতে এখনই পদক্ষেপ না নিলে, খুব শিগগিরই বিলটি হারিয়ে যাবে। সৌন্দর্য হারানোর ভয়াবহ শঙ্কা একসময় লাল শাপলার অপার রূপে সেজে উঠত এই বিল। আজ পানি সংকট, দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেই সৌন্দর্য বিপন্ন। প্রকৃতি বাঁচাতে উদ্যোগ না নিলে শাপলা বিলটি হয়তো অচিরেই হয়ে উঠবে অতীতের এক স্মৃতি।

