প্রতিবেদক: MA Muhit
তীব্র শীতে স্থবির জনজীবন শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়, হাওর, বিল ও চা-বাগানঘেরা জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় পুরো জেলাজুড়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি এবং সোমবার ও মঙ্গলবার ১৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঘন কুয়াশার কার
ণে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাজে যেতে হচ্ছে বোরো ধানচাষি, চা-শ্রমিক ও দিনমজুরদের। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অনেকেই কষ্টের মধ্যেই জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রিকশাচালক, টমটমচালক, নির্মাণ শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষদের খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে রাত ও সকালের শীত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি, বৃহস্পতিবার সকালেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। শীত নিবারণের আশায় নিম্ন আয়ের মানুষ ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকান থেকে গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন। এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় মৌলভীবাজার সদর জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। ফলে শীতজনিত দুর্ভোগ আরও কিছুদিন চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

