প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
মুনাফার হার আরও কমলো: কোন সঞ্চয়পত্রে কত
বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত পাঁচটি সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার আরও কমানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন মুনাফার হার স্কিমভেদে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হার ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসেও সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সরকার প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়
পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে থাকে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত স্কিমগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রেও ধাপভেদে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আগাম নগদায়নে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে পৃথক হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও মুনাফা কমানো হয়েছে। এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার দাঁড়াবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগাম নগদায়নের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে মুনাফা নির্ধারিত রয়েছে। এ ছাড়া ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে তিন বছর মেয়াদ শেষে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা কমিয়ে করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে ইস্যুকালীন মুনাফার হারই মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখে কার্যকর মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি–জুন সময়ে এই নতুন হার কার্যকর থাকবে এবং ছয় মাস পর পুনরায় মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হবে।

