ডিজিটাল যুগে নারীর শরীরই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় আয়ের মাধ্যম
মিথিলা এবার মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৫ -এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি তার সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং কৃতিত্ব দিয়ে বিচারকদের এবং দর্শকদের মন জয় করছেন। মিথিলার যাত্রা দেশের গ্লোবাল বিউটি ও ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। দেশের ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থন জানাচ্ছেন, যখন তিনি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন অংশে,
যেমন প্রতিভা, ফ্যাশন এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। নারীর জন্য শরীর ও শারীরিক উপস্থিতি এখন সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস । ইনস্টাগ্রাম, টিকটক থেকে শুরু করে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে, অসংখ্য নারী তাদের শারীরিক উপস্থিতিকে নগদ আয়ে রূপান্তরিত করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল খ্যাতি এবং ব্যক্তিগত কন্টেন্টের অর্থায়নের কারণে এমন একটি নতুন শিল্প জন্ম নিয়েছে, যেখানে অনুসারী ও এনগেজমেন্ট সরাসরি আয়ে রূপান্তরিত হয়। নারীরা ব্র্যান্ড এন্ডোরসমেন্ট, স্পনসরড কন্টেন্ট এবং প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন থেকে এমন আয় করছেন যা অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী পেশার চেয়ে অনেক বেশি। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবণতা নৈতিক ও মানসিক দিক থেকে উদ্বেগজনক । সমাজবিজ্ঞানী ডা. ফারহানা করিম বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অবমাননাকর বস্তুরূপায়ণকেও উৎসাহ দেয় এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত সৌন্দর্যের মানদণ্ডকে আরও জোরদার করে।” অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে তরুণীরা তাদের চেহারা বা ছবি থেকে দ্রুত আয় করার কারণে এই পথে ঝুঁকছেন। তবে ডিজিটাল খ্যাতির সঙ্গে আসে ঝুঁকি—গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অনলাইন হয়রানি এবং সামাজিক মানহানি। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে এটি একটি পরিবর্তনশীল ধারা নির্দেশ করছে, যেখানে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং শারীরিক উপস্থিতি বাজারযোগ্য পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিজিটাল বিশ্বের বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নতুন ধরনের আয়, নৈতিকতা এবং শোষণ নিয়ে বিতর্কও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
