প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ ও নারীর কর্মসংস্থান: LELA প্রকল্পের ভাসমান কৃষি প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত
মো:কামরুল ইসলাম: দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদকে কচুরিপানার আগ্রাসন থেকে রক্ষা এবং স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। “ LELA (Learn from the Environment and Lead to Adapt) ” প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটির স্থানীয় নারীদের নিয়ে মাসব্যাপী ভাসমান কৃষি প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫), ভ্রাম্মণটিলা, আসামবস্তি এলাকায়। প্রতি বছর কচুরিপানার বিস্তারে হ্রদের স্বাভাবিক প্রাণশক্তি কমে যায়। সেই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে
কৃষিজমির স্বল্পতা ও কর্মসংস্থানের অভাব নতুন সংকট তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় LELA প্রকল্পের এই প্রশিক্ষণ হবে টেকসই সমাধানের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—এমনটাই মনে করছেন আয়োজকরা। এক মাসের প্রশিক্ষণে তৈরি হলো টেকসই ভাসমান কৃষি মডেল ০৩ নভেম্বর থেকে ০১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা ৭ দিনের এই বিশেষ প্রশিক্ষণে ১৫ জন স্থানীয় নারী অংশ নেন। প্রশিক্ষণে তারা পান— ভাসমান বেড তৈরি জৈব চাষ পদ্ধতি রক্ষণাবেক্ষণ কৌশল উৎপাদিত পণ্যের বিপণন পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান LELA প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রচলিত জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি টেকসই ভাসমান কৃষি মডেল তৈরি করা—যা কচুরিপানাকে ‘সমস্যা’ নয় বরং ‘সম্পদে’ পরিণত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অতিথিদের বক্তব্য: কচুরিপানাকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইউপ্রু মারমা, সদস্য, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ। তিনি বলেন— “প্রতিবছর কচুরিপানার কারণে স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েন। এই উদ্যোগ শুধু সমস্যার সমাধানই নয়, এটি হতে পারে নতুন আয়ের পথ।” রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানাজ পারভীন বলেন— “এই কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আরও বেশি মানুষকে ভাসমান কৃষি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কচুরিপানা শুধু মানুষের জন্য নয়, হ্রদের জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে।” টিআইবি সচেতন নাগরিক কমিটির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর জনাব বেনজিন চাকমা বলেন— “জনসংখ্যা বাড়ায় কৃষিজমি কমছে। রাঙ্গামাটিতে কচুরিপানাকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও এই প্রশিক্ষণে যুক্ত করা জরুরি।”

