প্রতিবেদক: জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
প্রথমবার ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে হামলা চালালেন ট্রাম্প: যুদ্ধ কি আসন্ন?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে স্থলভিত্তিক সামরিক হামলা চালিয়েছে। সোমবার এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার একটি ডক বা নোঙরঘাটকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যেটি মাদক বহনকারী নৌযান লোড করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। কী ঘটেছে? ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “যেখানে তারা মাদক ভর্তি নৌকা প্রস্তুত করত, সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে। আমরা শুধু নৌকাই নয়, পুরো কার্যক্রমের কেন্দ্র ধ্বংস করে দিয়েছি।” হামলাটি কে পরিচালনা করেছে বা ঠিক কোথায় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। তবে মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে সিআইএ জড়িত থাকতে পারে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরও একটি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। কেন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই অভিযান? ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সময় দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, ভেনেজুয়েলা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা বড় কোনো মাদক সরবরাহকারী দেশ নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই অভিযোগের পক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তেলই কি আসল কারণ? বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদই মূলত এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। অতীতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় তেল সরবরাহকারী ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সম্প্রতি বলেন, “ভেনেজুয়েলার তেল আসলে আমেরিকার, জাতীয়করণ ছিল চুরি।” তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দেশটির সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। যুদ্ধ কি অনিবার্য? কারাকাসভিত্তিক বিশ্লেষক এলিয়াস ফেরের বলেন, যদি এই হামলা ভেনেজুয়েলা সরকারের অনুমতি ছাড়াই হয়ে থাকে, তবে এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে, টেম্পল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকফারসন বলেন, “এটি একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের সূচনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মাদুরো সরকারকে উৎখাত করতে চায়।” কংগ্রেস কি ট্রাম্পকে থামাতে পারবে? যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও বাস্তবে প্রেসিডেন্টরা বহুবার কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। সম্প্রতি কংগ্রেসে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও তা অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা পরিস্থিতিকে হয় শান্ত করতে পারে, নয়তো একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে কারাকাসের প্রতিক্রিয়া এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

