রাষ্ট্রগঠনে নতুন দিগন্ত—বিএনপির ৩১ দফায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার
রাষ্ট্রগঠনে নতুন দিগন্ত—বিএনপির ৩১ দফায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার বিশেষ প্রতিবেদন নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, গণতন্ত্রের সংকট, বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে যে উদ্বেগ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্রতর হয়েছে—তারই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি সামনে এনেছে রাষ্ট্র মেরামতের এক বিস্তৃত রূপরেখা। ১৩ জুলা
ই ২০২৩—এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুনভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। সেদিনই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতির সামনে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রগঠনের ৩১ দফার রূপরেখা, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— “রাষ্ট্র হবে জনগণের, ক্ষমতা হবে জনগণের, সিদ্ধান্তও হবে জনগণের।” এই ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা নয়—এ হলো নতুন রাষ্ট্রীয় দর্শন, সুশাসনের নীলনকশা, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্ভাব্য পথনির্দেশ। কেন প্রয়োজন ৩১ দফা?—বাস্তবতার কঠিন চেহারা বাংলাদেশে বহু বছর ধরে— বিচার বিভাগের কাঠামো প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন ব্যবস্থা আস্থাহীন, মানবাধিকার লঙ্ঘন নিত্যদিনের খবর, দুর্নীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেছে, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ, এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত। ঠিক এমন এক বাস্তবতায় বিএনপির ৩১ দফা এনে দিয়েছে অন্য এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন। ৩১ দফার প্রধান দিক: রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডকে পুনর্গঠন এই রূপরেখায় প্রতিটি সেক্টরকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা একটি আধুনিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম। 🔹 গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার স্বাধীন নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। 🔹 বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিচার ব্যবস্থা নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে জনগণের ন্যায়বিচারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। 🔹 দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা; রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা। 🔹 মানবাধিকার ও স্বাধীনতা সংবিধানসম্মত নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা। 🔹 শক্তিশালী স্থানীয় সরকার জনগণের সমস্যা স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানে পূর্ণ ক্ষমতায়ন—যা উন্নয়নকে দ্রুততর ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। 🔹 ডিজিটাল নিরাপত্তা সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল অধিকার প্রতিষ্ঠা। মোট ৩১টি দফাতে রয়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে মেরামতের সামগ্রিক নকশা—যা বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়ন, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে সাহায্য করবে। দিরাই–শাল্লা (সুনামগঞ্জ–২): পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে মোঃ আকুল মিয়া সাবেক সভাপতি—জার্মান বিএনপি প্রবাস জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মাঠের প্রতিটি ধাপে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন মোঃ আকুল মিয়া। জার্মান বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গভীরতা। দিরাই–শাল্লা (সুনামগঞ্জ–২) এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর দখল অত্যন্ত দৃঢ়। তিনি বিশ্বাস করেন— “যেখানে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে, সেখানে উন্নয়ন থেমে থাকতে পারে না।” শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান—সব খাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি প্রস্তুত। জনগণের দরজায় দরজায় গিয়ে তিনি তুলে ধরছেন বদলে যাওয়া বাংলাদেশের স্বপ্ন— একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ, আধুনিক ও সেবাধর্মী দিরাই–শাল্লা গড়ার অঙ্গীকার। আমাদের মূল্যায়ন: ৩১ দফা কি সত্যিই বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সমাধান? বিশেষজ্ঞদের মতে— রাজনৈতিক সংকট নিরসন, প্রশাসনিক ভারসাম্য, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রেই অপরিহার্য। বিএনপির এই ৩১ দফা বাংলাদেশে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে—যদি তা বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। সমাপনী বিশ্লেষণ বাংলাদেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্র পরিচালনার বিদ্যমান কাঠামো মানুষকে যতটা জর্জরিত করেছে, ঠিক ততটাই আশান্বিত করেছে নতুন রূপরেখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। বিএনপির ৩১ দফা— একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, এটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন, একটি মুক্তির পথ, একটি জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণের অঙ্গীকার। যদি এই রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়— বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, যেখানে প্রধান শক্তি হবে—মানুষের অধিকার, মানুষের কণ্ঠ, মানুষের রাষ্ট্র।
