প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
সালিশে টাকা পরিশোধের পরও এন.আই অ্যাক্ট মামলা প্রত্যাহার না করার অভিযোগ
আইনজীবী সমিতির দ্বারস্থ ভুক্তভোগী পরিবার সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ ও পরবর্তীতে লিখিত আপোষনামা অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করা সত্ত্বেও এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় গভীর ভোগান্তিতে পড়েছেন মৌলভীবাজারের সুরঞ্জন সূত্রধর। এ ঘটনায় বাদী অলিউর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সুরঞ্জনের চাচা সাধন সূত্রধর। ঘটনার শুরু: টাকা লেনদেন নিয়ে মামলা জানা যায়, হবি
গঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল গ্রামের বাসিন্দা অলিউর রহমান টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে সুরঞ্জন সূত্রধরের বিরুদ্ধে এন.আই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় ৬৬/২০২৩ ইং মামলা করেন। মামলা দায়েরের আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়, যার মধ্যে সুরঞ্জন সূত্রধর দুই লাখ পঁচানব্বই হাজার টাকা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অলিউরের হাতে পরিশোধ করেন। আদালতের বাইরে আপোষ: সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকায় সমঝোতা পরবর্তীতে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বাদী পক্ষের আইনজীবী (যিনি বাদী অলিউরের চাচাতো ভাই) এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীর উদ্যোগে উভয়পক্ষের মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আপোষ মীমাংসা হয়। এই আপোষের বিষয়ে উভয়পক্ষের সম্মতিতে একটি লিখিত ‘আপোষনামা’ তৈরি করা হয়, যেখানে সুরঞ্জন সূত্রধর (আসামি) বাদী অলিউর রহমান উভয়েই স্বাক্ষর প্রদান করেন। আপোষ অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে পুরো ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন সুরঞ্জন সূত্রধর। টাকা নেওয়ার পরও মামলা তোলেননি বাদী অলিউর অভিযোগ রয়েছে— টাকা সম্পূর্ণ পাওয়ার পরও বাদী অলিউর রহমান মামলা প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ নেননি। উভয়পক্ষের আইনজীবী, সালিশে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তি এবং পরিবারের সদস্যরা বহুবার বাদীর সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সুরঞ্জন সূত্রধর আর্থিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দাখিল সম্পূর্ণ ঘটনার সঠিক বিচার এবং প্রতিকার দাবি করে সাধন সূত্রধর বাদী অলিউরের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বরাবরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। পরিবারের দাবি— “যখন সালিশে টাকা দেওয়া হয়েছে, পরে লিখিত মীমাংসায় আরও টাকা দেওয়া হয়েছে, তবুও মামলা না তোলা স্পষ্ট প্রতারণা এবং আইনের অপব্যবহার।” মামলাটি নিয়ে আদালত ও আইনজীবী মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

