প্রতিবেদক: জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলে নিষিদ্ধ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে — ট্রাম্পের ঘোষণা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আলোড়ন
ওয়াশিংটন, ১০ ডিসেম্বর — ভেনেজুয়েলার উপকূলে নিষিদ্ধ একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ঘোষণা দেন, যা সঙ্গে সঙ্গেই বৈশ্বিক তেলের বাজারকে নাড়া দেয় এবং ওয়াশিংটন–কারাকাস উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন: “আমরা ঠিক এখনই ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি বিশাল ট্যাংকার জব্দ করেছি—সবচেয়ে বড়গুলোর মধ্যে একটি। আরও অনেক কিছু ঘটছে।” তেল জব্দের পর কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি ঠাট্টার সুরে বলেন: “আমরা রাখব মনে হয়।”
🇻🇪 ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া: “আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা” ভেনেজুয়েলা সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ “স্পষ্ট চুরি” এবং “আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা” । তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সামনে তোলা হবে। কোন ট্যাংকারটি জব্দ হলো? ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা Vanguard জানায়, জব্দ হওয়া জাহাজটি সম্ভবত VLCC Skipper , যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে। • জাহাজটি ১৮ লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলান ক্রুড তেল বহন করছিল • কিছু তেল কিউবার পথে অন্য জাহাজে স্থানান্তরও করেছিল • জাহাজটি গায়ানা–এর ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, কোস্টগার্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে নেমে অভিযান চালায়—এর ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল। ইরানের কারাকাস দূতাবাস ঘটনাটিকে “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” বলে নিন্দা করেছে। তেলের দামে প্রভাব খবর প্রকাশের পর: • ব্রেন্ট ক্রুড বেড়ে দাঁড়ায় $62.21 • WTI ক্রুডও ওঠে $58.46 বিশ্লেষকদের মতে, এই জব্দকরণ বৈশ্বিক সরবরাহে “তাৎক্ষণিক নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ” অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। 🇻🇪 ভেনেজুয়েলা–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চরমে মাদুরো সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সরকার পতন ও ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত দখলের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে—এটি “আইন ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ।” বিতর্কিত নৌ-অভিযান নিয়ে উদ্বেগ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকা ধ্বংস করে ৮০–এর বেশি মানুষ হত্যা করেছে—যা আইনগতভাবে বৈধ কিনা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন। এক জন সার্ভাইভারকে নৌকা ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে—বেশিরভাগ আমেরিকান এই “মরণঘাতী নৌ-অভিযান” সমর্থন করেন না। বৈশ্বিক ভূরাজনীতি কোথায় যাচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে— এই ট্যাংকার জব্দ করা শুধু একটি অভিযান নয়; এটি ওয়াশিংটনের নতুন শক্তি-রাজনীতির আগ্রাসী বার্তা। এর প্রভাব পড়তে পারে: ✔ ভেনেজুয়েলা ✔ ইরান ✔ কিউবা ✔ বৈশ্বিক তেলবাজার ✔ পশ্চিমা ভূ-রাজনৈতিক জোটের ওপর

