স্টাফ রিপোর্টার
বোমা মেরে উড়িয়ে দেব জেলা পরিষদে হুমকির অভিযোগ উঠেছে
জেলা পরিষদকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেব মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রকাশ্যে এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তোয়েলের বিরুদ্ধে। বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এসে হুমকি, গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের অভিযোগ এনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার। জিডির নম্বর ১৩২। জেলা পরিষদ সূত্র ও জিডিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, তোফায়েল আহমদ তোয়েল দীর্ঘ ১৯
বছর ধরে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি করে আসছেন। সম্প্রতি মৌলভীবাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের একটি অংশের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার করা জিডিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির একটি অংশ রিকাস্ট করা হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ওই অংশের বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিলের ফাইল প্রক্রিয়াধীন থাকলেও তোয়েল একাধিকবার জেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কার্যালয়ে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ জিডির অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের নিচতলায় দাঁড়িয়ে তোয়েল প্রকাশ্যে বলেন, জেলা পরিষদকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেব। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এমন হুমকির ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২ জুলাই দুপুরে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় জেলা পরিষদ ভবনের নিচতলার বারান্দায় অধীনস্থ কর্মচারীদের সামনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন তোয়েল। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের দাবি, বিলের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন থাকার পরও বারবার কার্যালয়ে এসে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ নিয়ে কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মানববন্ধন নিয়েও অভিযোগ জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর অনুসারী ঠিকাদারদের নিয়ে মানববন্ধন করেন তোয়েল। ওই মানববন্ধনে জেলা পরিষদ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনে কী ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছিল কি না তা তদন্তের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমদ তোয়েল। তিনি বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। জেলা পরিষদের অন্য কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেই সত্যিটা জানা যাবে। জিডির বিষয়টি নিয়ে জেলার ঠিকাদাররা একসঙ্গে বসে আলোচনা করবেন এবং এরপর পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন বলেও জানান তিনি। তোয়েলের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বাস্তবতা জেলা পরিষদের অন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে যাচাই করলেই স্পষ্ট হবে। যে বিল ঘিরে বিরোধ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভবন নির্মাণ প্রকল্পের একটি অংশের বিলকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক বিরোধের সূত্রপাত। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রকল্পের রিকাস্ট করা অংশের অনুমোদন না থাকায় ওই অংশের বিল পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ঠিকাদারপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করার পরও পাওনা বিল নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তারা অসন্তুষ্ট। এ নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। দুই সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় কর্মকর্তা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার বর্তমানে জেলা পরিষদের সরকারি বাংলোয় দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, কার্যালয়ে এসে প্রকাশ্যে হুমকি ও অশোভন আচরণের ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। তদন্তে স্পষ্ট হবে প্রকৃত ঘটনা মৌলভীবাজার মডেল থানায় জিডি করার পর পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হতে পারে। হুমকির অভিযোগের সত্যতা, হুমকির প্রকৃতি এবং বিল নিয়ে বিরোধের কারণে পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত হয়েছিল তদন্তে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার কথা। একদিকে সরকারি কর্মকর্তার করা গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদারের সরাসরি অস্বীকার। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন জেলা পরিষদ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা। একনজরে অভিযোগ: জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি অভিযুক্ত: তোফায়েল আহমদ তোয়েল, বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার অভিযোগকারী: শামীমা খন্দকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ জিডি: মৌলভীবাজার মডেল থানায়, নম্বর ১৩২ বিরোধের সূত্র: রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভবন নির্মাণ প্রকল্পের বিল অন্য অভিযোগ : গালিগালাজ, অশালীন আচরণ ও চাপ প্রয়োগ অভিযুক্তের বক্তব্য : আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি বর্তমান অবস্থা: অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে

