সভ্যতার পথে বাংলাদেশ: আমরা কি সত্যিই মানুষ হয়ে উঠতে পারলাম?
রাস্তায় যানজট, ট্রাফিক আইন ভাঙা, ফুটপাতে দোকান—এসব দৃশ্য এখন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের চিত্র। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো—সবকিছুতেই দেশ এগোচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, মানুষের আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ আর নাগরিক চেতনা কি সেই গতিতেই এগোচ্ছে? রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে এক প্রবীণ পথচারী বললেন, “আইন মানে এ
খন কেউই গুরুত্ব দেয় না। সবাই শুধু নিজের সুবিধা চায়।” এই কথাই যেন পুরো সমাজের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। অনেকেরই চোখে পড়ে না অন্যের অসুবিধা বা অধিকারের বিষয়টি। সমাজে ‘আমার কাজ শেষ হলেই চলবে’—এই মানসিকতা এখন সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিক দায়িত্ব ও সামাজিক সচেতনতার অভাবই এখন বাংলাদেশের বড় সংকট। শিক্ষার প্রসার হলেও সেই শিক্ষা মূল্যবোধ তৈরি করতে পারছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্থানের সঙ্গে জন্ম নিচ্ছে নতুন এক প্রজন্ম, যাদের অনেকেই নিজের পরিচয় গড়ছে শুধুমাত্র টিকটক ভিডিও আর সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ারের ওপর ভিত্তি করে। সমাজবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই ‘দেখানোর সংস্কৃতি’ তরুণ সমাজের চিন্তাশক্তি ও মানবিক বোধকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে রাজনীতি—যা একসময় ছিল মানুষের সেবার মাধ্যম—আজ তা অনেকের কাছে কেবল অর্থনৈতিক সুযোগ ও ক্ষমতার হাতিয়ার। মানবিকতা, নীতিবোধ ও আদর্শ রাজনীতির অভিধান থেকে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বাংলাদেশে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সংকটই সবচেয়ে বড় বাধা। দেশের অগ্রগতি শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের মনের পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। তাদের ভাষায়—“যতদিন পর্যন্ত নাগরিকরা নিজেদের আয়নায় তাকিয়ে দেখবে না, ততদিন উন্নয়ন কেবল ভবনে, সভ্যতা আসবে না মানুষের মনে।” বুদ্ধি, শিক্ষা, আর বিবেক—এই তিনটি জিনিসই যেন আজ মানুষের মধ্যে হারিয়ে গেছে। যদি এই মানসিকতা না বদলায়, তাহলে আরও ১৫ বছর পরও আমরা হয়তো মানুষ হিসেবে পিছিয়েই থাকব।
