প্রতিবেদক: জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
বেইজিং — তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রতিরক্ষা কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বুধবার এই ঘোষণা দিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াল চীন, যা তাদের মতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক বিক্রি ও তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে। নিষেধ
াজ্ঞার আওতায় চীনে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু নির্বাহীর চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “চীনের তাইওয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি এক-চীন নীতির গুরুতর লঙ্ঘন এবং চীনের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং “দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক পাল্টা ব্যবস্থা” নেবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের আওতায় তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব অস্ত্র বিক্রি প্রতিরক্ষামূলক এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়। যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছে, তারা তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না—তবে চীন এই অবস্থান নিয়ে সন্দিহান। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অতীতে ওয়াশিংটন এ ধরনের চীনা পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী বলে আখ্যা দিয়েছে, উল্লেখ করে যে অনেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানির চীনা বাজারে সীমিত সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, মানবাধিকার এবং এশিয়া-প্যাসিফিকে সামরিক তৎপরতাসহ নানা ইস্যুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ক অবনতির দিকে গেছে। এর মধ্যে তাইওয়ান অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু, যেখানে বেইজিং যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাইওয়ানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে—এর মধ্যে বাড়তি অস্ত্র বিক্রি ও রাজনৈতিক যোগাযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাগুলো অর্থনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলবে না; তবে যুক্তরাষ্ট্র–তাইওয়ান সামরিক সহযোগিতা গভীর হওয়ায় বেইজিংয়ের আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

