ইন্টারনেট বন্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, এনটিএমসি বিলুপ্তির প্রস্তাব—নতুন টেলিযোগাযোগ আইনের খসড়া প্রকাশ
সরকার ইন্টারনেট বন্ধের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্তির প্রস্তাব করে নতুন টেলিযোগাযোগ আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে। ৪ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫’ নামের খসড়া আইনে বলা হয়েছে— “কোনো পরিস্থিতিতেই টেলিযোগাযোগ সংয
োগ, সংশ্লিষ্ট সেবা বা ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ, বিঘ্নিত বা সীমিত করা যাবে না।” এর মাধ্যমে নির্বিচারে ইন্টারনেট বন্ধ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পুরোনো পদ্ধতি বন্ধ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বহুসমালোচিত এনটিএমসি বিলুপ্ত করা হচ্ছে—যা এতদিন ব্যাপক যোগাযোগ নজরদারি পরিচালনায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে সমালোচিত ছিল। এর পরিবর্তে ‘লফুল ইন্টারসেপশন’ নামে নতুন একটি প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যেখানে আদালত বা ক quasi-judicial কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের তথ্য আটকানো যাবে না এবং তা শুধুই সীমিত ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা যাবে। খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “নতুন অর্ডিন্যান্স নজরদারির ধারণাটাই বিলোপ করে দিয়েছে। অনুমোদনহীন তথ্য-আটকে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।” ১০২ ধারার এই খসড়া অর্ডিন্যান্সে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর এটি স্টেকহোল্ডার আলোচনা, আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, নতুন আইনটির লক্ষ্য হলো নাগরিকদের অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা এবং পূর্বের সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো—যেখানে ইন্টারনেট বন্ধ ও ব্যাপক রাষ্ট্রীয় নজরদারির সুযোগ ছিল।
