মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
পশ্চিম বাজার দেলোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ২
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার বেরিরচর গুলবাগ এলাকায় বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমবাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে হঠাৎ করে দেলোয়ার মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে পাপ্পু মিয়ার বসতঘরে হামলা চালান বলে
অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পাপ্পু মিয়ার বোন বন্যা জানান, তাদের বসতবাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে আমার ভাই আব্দুল্লাহ ও বাবা শ্যামল মিয়াকে মারধর করা হয়। তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় তার ভাই আব্দুল্লাহ এবং পিতা শ্যামল মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। দ্রুত তাদের মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির কিছু অংশ ভিডিও ফুটেজে ধারণ হয়েছে বলেও ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীরা জানান, এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, একটি পরিবারের ঘরে ঢুকে হামলা-ভাঙচুর খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনুক। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানা গেছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার মিয়ার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা যে কোনো দ্বন্দ্বের সমাধান কখনোই হামলা, ভাঙচুর বা সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনকে সম্মান করা এবং বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র পথ।

