মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের নাজমা বেগমের অপহরণ
নাটক অতঃপর প্রেমিকসহ আটক নাজমা'র বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের দাবি মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে বহুল আলোচিত ‘অপহরণ নাটক’ মামলার অন্যতম আসামি নাজমা বেগম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এর আগে প্রেমিক মোঃ আবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে জামাতা জুবায়ের মিয়ার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন নাজমা বেগম। মামলার বাদী নাজমা বেগমের মেয়ের জামাই জুবায়ের মিয়া (২৬)। তিনি প্রথমে ৩০/০৩/২০২৬ ইং তারিখে মৌলভীবাজার
সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬৬১) দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে থানায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-০৪/৮৭) রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত ও অভিযানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে এসএমপি সিলেটের কোতোয়ালী থানাধীন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন একটি ফার্মেসির সামনে থেকে ১নং আসামি মোঃ আবুল হোসেন (৩০)-কে অভিযান পরিচালনা করে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার ইম্পেরিয়াল আবাসিক হোটেল থেকে ২নং আসামি নাজমা বেগম (৪২)-কে সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ আশরাফুল আলম চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ সফল অভিযান পরিচালনা করে আটক করেন। পরে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নাজমা বেগম ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ জুবায়ের মিয়া থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং কৌশলগতভাবে ২ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আটক করে। বর্তমানে নাজমা বেগম জামিনে থাকলেও তার বিরুদ্ধে পুনরায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, তিনি মাদক ব্যবসা, নারী পাচার/ব্যবসা এবং বিভিন্ন এনজিও বা সমিতির আড়ালে প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অনুসন্ধানে জানা যায়, নাজমা বেগমের পৈতৃক বাড়ি ছিকরাইল গ্রামে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কলিমাবাদ এলাকায় বসবাস করছেন। স্থানীয়দের দাবি, সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা আরও জানান, তিনি বিভিন্ন সিম ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেন। এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এক প্রবাসীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি সামাজিক সম্মানের কারণে মামলা না করলেও জানান, এমন আরও অনেক প্রবাসী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, তিনি বিভিন্ন এনজিও/সমিতির সভানেত্রী হিসেবে কাজ করে নারীদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি চড়া সুদের ব্যবসার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত নাজমা বেগম জামিনে রয়েছেন এবং তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে একটি বড় প্রতারণা ও অপরাধ চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তাকে পুনরায় গ্রেফতার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তদন্ত ও নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

