ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে রুশ হিমায়িত সম্পদ ব্যবহারের প্রস্তাবে এগোতেই হবে, কিয়েভে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য
রুশ হিমায়িত সম্পদকে ইউক্রেনের জন্য ক্ষতিপূরণ ঋণে রূপান্তর করার ইইউ পরিকল্পনা অবিলম্বে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত কাটারিনা মাথের্নোভা। তিনি এই মন্তব্য করেন ইউরোনিউজের প্রধান সকালবেলার অনুষ্ঠান ইউরোপ টুডে -তে এক সাক্ষাৎকারে। ইউক্রেনের সামরিক ও বাজেট সহায়তার প্রয়োজন আগামী বছর ও ২০২৭ সাল পর্যন্
ত বাড়তে থাকায়, ইইউ কিয়েভকে নিয়মিত ও স্থায়ী অর্থায়ন দেওয়ার উপায় খুঁজছে। এই অবস্থায় ইউরোপীয় কমিশন রুশ হিমায়িত রাষ্ট্রীয় সম্পদকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিপূরণ ঋণে রূপান্তরের নজিরবিহীন প্রস্তাব সামনে এনেছে। তবে বেলজিয়াম — যেখানে ইউরোক্লিয়ার ডিপোজিটরিতে এসব সম্পদের বড় অংশ সংরক্ষিত — এখনো এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। “রুশ হিমায়িত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের এগোতে হবে,” বলেন মাথের্নোভা। “এটি শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়া এবং সমগ্র ইউরোপের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভার ইউরোপীয় কমিশনকে একটি কঠোর ভাষার চিঠি পাঠিয়ে তার আপত্তি জানান। ইউরোনিউজের হাতে পাওয়া ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, এই ক্ষতিপূরণ ঋণের পরিকল্পনা “মৌলিকভাবে ভুল” এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। “ক্ষতিপূরণ ঋণের প্রস্তাবের মাধ্যমে আমরা শুধু আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করব না, বরং আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করব,” লিখেছেন দে ভেভার। বেলজিয়াম ও ইইউ শীর্ষ পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনার পরও আগামী ডিসেম্বরের ইইউ সম্মেলনের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইউক্রেন সতর্ক করে বলেছে, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকেই তাদের জরুরি অর্থ সহায়তা প্রয়োজন হবে। মাথের্নোভা বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর; শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়, পুরো ইউরোপের জন্যও।” তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা এবং ইউক্রেনকে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ওপর জোর দেন। রুশ হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকার ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি। সাধারণ মানুষ ক্লান্ত ও শান্তি চায় — তবে “ন্যায়সঙ্গত শান্তি” হওয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
