মো. আমিরুল হক, জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর পাংশায় ছুটিতে থাকা সেনাসদস্যকে পিটিয়ে আহত, ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের পারকুল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুটিতে থাকা এক সেনাসদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে পারকুল নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত সেনাসদস্য রাহাত হোসেন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাহাত হোসেন পারকুল গ্রামের ইজহার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। এ ঘটনায় শনিবার রাহাতের বাবা ইজহার বিশ্বাস বাদী হয়ে আকমল হোসেন টিক্কাকে প্রধান করে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে পাংশা মডেল
থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কসবামাজাইল ইউনিয়নের পারকুল ও পার্শ্ববর্তী মাজাইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে মাজাইল গ্রামের এক ব্যক্তিকে জমি মাপাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। ওই হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইজহার বিশ্বাসের অভিযোগ, বুধবার রাতে তাঁর ছেলে রাহাত পারকুল নদীর পাড়ে বসে ছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতা, সামাজিক বিরোধ ও জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর ছেলের ওপর হামলা চালান। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত রাহাতকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিএমএস হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পারকুল এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মইনুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

