প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
আল রাজি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ
মোঃ সুলতান মাহমুদ, গাজীপুরের শ্রীপুরে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নার্স দিয়ে ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় আল রাজি হাসপাতাল। মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে বিচার দাবি করেছেন শোকার্ত বাবা–মা ও স্বজনেরা। অভিযোগের সূত্রপাত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম। এর আগের দিন শনিবার দুপুরে পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত আল রাজি হাসপাতালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নবজাতক উপজেলার আজুগিরচ
ালা গ্রামের নাজমুল ইসলাম ও শারমিন আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তান। পরিবারের বেদনাহত বর্ণনা নাজমুল ইসলাম জানান, “সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৩ হাজার টাকায় সিজারিয়ান অপারেশনের চুক্তিও হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তারা অপারেশন না করে বারবার নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে থাকে। নার্স কল্পনা আক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।” প্রসূতি শারমিন আক্তার বলেন, “ইনজেকশন দেওয়ার পর আমাকে অসহনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়। পরে জরায়ুর মুখ কেটে মৃত সন্তান বের করা হয়।” নার্সের দাবি হাসপাতালটির নার্স কল্পনা আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটারে কাজ করায় অভিজ্ঞতা ছিল। রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে আমি ডেলিভারি করাই। জন্মের পর শিশুটি কান্না না করায় অন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে জানানো হয় সন্তানটি মৃত।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আল রাজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক রাসেল মিয়া জানান, “হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক না থাকায় ওই রোগীকে ভর্তি না করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। আমাকে না জানিয়েই ভর্তি করা হয়েছে।” স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয়দের অভিযোগ, “অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের এসব হাসপাতালেই প্রায়ই মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির কারণে ঘটনাগুলো একসময় ধামাচাপা পড়ে যায়। একটি ঘটনারও সঠিক বিচার হলে এমন মৃত্যু কমে যেত।” স্বাস্থ্য বিভাগের অবস্থান শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।” শ্রীপুর থানার তদন্ত পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, “স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের লাইসেন্সসহ সকল কাগজপত্র যাচাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সিভিল সার্জন অফিসের মন্তব্য গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিবেদন শেষে আলাদাভাবে তদন্ত কমিটি পাঠানো হবে। দুই স্তরের তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অতীতের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় বাদী–বিবাদী পরবর্তীতে সমঝোতায় পৌঁছে যায়। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে যায়। এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে করণীয় সীমিত হয়ে পড়ে।” অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও অনুমোদনবিহীন হাসপাতালের কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

