প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
মতিন বকসের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
মৌলভীবাজার: দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলীয় নীতি–আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে ইতোপূর্বে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মতিন বকস–এর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর ওপর আরোপিত ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করে
মতিন বকসের আবেদন পর্যালোচনা শেষে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদে আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মতিন বকস বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে থানা যুবদলের সভাপতি, ১৯৯৬ সালে জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক, ২০০১ সালে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হন এবং সর্বশেষ মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯৯৮ সালে হরতাল চলাকালে তাঁর প্রথম কারাবাস হয়। ২০১১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া –এর বাসভবন উচ্ছেদের প্রতিবাদে হরতালের আহ্বান জানালে ২৫ নভেম্বর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। এছাড়া ২০১৫ সালে পুলিশ এস্ট মামলায়, ২০১৭ সালে আদালতের ওয়ারেন্টে বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে মামলায় তিনি কারাগারে যান। স র্বশেষ ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় লেখালেখির কারণে নির্বাহী আদেশে রাজবন্দী হিসেবে মুক্তি পান। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বিচার-শালিস কার্যক্রম, সাংবাদিকতা এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নানা উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততার কথাও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সারমর্ম: দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মতিন বকসের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদে আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

