মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ফেসবুক লাইভে হুমকির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে শঙ্কা প্রকাশ করে শ্রীমঙ্গল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক মনজু বিজয় চৌধুরী। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজার এলাকার লেবু আড়তে পরিবহন শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যম
ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর অভিযুক্ত পক্ষের একজন ব্যক্তি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) অনলাইনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে সাংবাদিক মনজু বিজয় চৌধুরী উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গত ৬ জুন গভীর রাতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। ওই লাইভে তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, অপমানজনক মন্তব্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি তার পেশাগত কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি ও ভবিষ্যতে ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। জিডিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার জালালিয়া রোডের বাসিন্দা নূর আলম। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘নুরুল আলম লেবু’ নামে পরিচিত। সাংবাদিক মনজু বিজয় চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি অভিযোগের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাই আইনগত সুরক্ষার স্বার্থে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।” তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের কাজ হলো সত্য ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরা। কোনো সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমি আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী এ ধরনের ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনি বা নীতিগত উপায়ে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে, কিন্তু একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন। ফলে অনেক সময় বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজন হতে হয়। তবে একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এদিকে সাধারণ ডায়েরি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। সচেতন মহলের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে কাউকে হুমকি দেওয়া কিংবা মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা বর্তমানে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হয়ে উঠেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। ঘটনাটি নিয়ে শ্রীমঙ্গলসহ জেলার সাংবাদিক সমাজে আলোচনা চলছে। সাংবাদিকরা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো গণমাধ্যমকর্মী যেন হয়রানি, ভয়ভীতি বা হুমকির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

