মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মানবতার ফেরিওয়ালা ডা. শাহীন আহমেদ
সমাজে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় শুধুমাত্র পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁদের কর্ম, মানবিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা একসময় তাঁদেরকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। মৌলভীবাজারের মাতারকাপনস্থ বি.এন.এস.বি. চক্ষু হাসপাতালের খ্যাতনামা চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. শাহীন আহমেদ তেমনই একজন মানুষ, যিনি চিকিৎসক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। চোখ মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। পৃথিবীর রঙ, প্রকৃতির সৌন্দর্য, প্রিয়জনের মুখ কিংবা জীবনের
অসংখ্য অনুভূতি সবকিছুই আমরা অনুভব করি দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে। সেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা একজন মানুষের জন্য শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও সামাজিকভাবেও এক বড় সংকট। আর সেই সংকট থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার মহান দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ডা. শাহীন আহমেদ।দীর্ঘদিন ধরে তিনি দক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। অসংখ্য রোগী তাঁর হাত ধরে ফিরে পেয়েছেন দৃষ্টিশক্তি, ফিরে পেয়েছেন স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ। কিন্তু একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কেবল সফল অপারেশন কিংবা চিকিৎসা নয়; বরং রোগীর প্রতি তাঁর মমত্ববোধ, সহানুভূতি ওমানবিক আচরণ।ডা. শাহীন আহমেদ মনে করেন, চিকিৎসা শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।তিনি বলেন, চিকিৎসা আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। একজন রোগী যখন সুস্থ হয়ে হাসিমুখে ফিরে যান, তখন সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই উপলব্ধিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর কাছে রোগীর আর্থিক অবস্থান কখনোই চিকিৎসা পাওয়ার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায় না। ধনী-গরিব, পরিচিত-অপরিচিত—সবাই তাঁর কাছে সমান গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর রয়েছে গভীর সহমর্মিতা। অনেক রোগী আছেন, যাঁদের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু অর্থের অভাব যেন চিকিৎসা পাওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য তিনি নীরবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কখনো চিকিৎসা খরচে সহায়তা করেন, কখনো ওষুধের ব্যবস্থা করেন, আবার কখনো প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সাহস জোগান। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য অনেক মানুষ আছেন যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না। আমি বিশ্বাস করি, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর মানবিক দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রোগীর মনোবল বৃদ্ধি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, ওষুধ ও চিকিৎসার পাশাপাশি ভালো ব্যবহারও রোগীকে সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তাঁর ভাষায়, একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু অপারেশন বা ওষুধ দেওয়া নয়, রোগীর মনোবল বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ব্যবহার অনেক সময় ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে। আজকের সময়ে যখন অনেক ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়, তখন ডা. শাহীন আহমেদের মতো মানুষ সমাজকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষ তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও সমানভাবে পালন করতে পারেন। মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে চলেছেন তিনি। তাঁর সেবা, মমতা ও দায়িত্ববোধের ছোঁয়ায় উপকৃত হয়েছেন হাজারো মানুষ। তাই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন ডাক্তার নন, তিনি একজন আস্থার নাম, একজন মানবিক অভিভাবক, একজন নীরব সমাজসেবক। আমাদের সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই শক্তিশালী হবে মানবতার ভিত্তি। আর সেই মানবতার পথচলায় ডা. শাহীন আহমেদের মতো মানুষ নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন। মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়া যায় চিকিৎসার মাধ্যমে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া যায় কেবল ভালোবাসা, সততা ও মানবিকতার মাধ্যমে। ডা. শাহীন আহমেদ সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফল।

