প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
মৌলভীবাজার খলিলপুরে বিকাশের টাকা হ্যাকের জেরে সংঘর্ষ
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১নং খলিলপুর ইউনিয়নের কাটরাই গ্রামে বিকাশের টাকা হ্যাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিকাশ হ্যাকের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা থেকেই এ উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার মডেল থানা ও শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৫ সালে সামছুল ইসলাম ও সাইদুল ইস
লামের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন থেকে বিকাশ ট্রানজেকশন নম্বর ক্যাম-২৫-এক্সকিউ-৯৮ এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার টাকা হ্যাক হয়ে যায়। এ ঘটনায় পাশের বাড়ির সোয়েব মিয়াকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোয়েব মিয়া এর আগেও বিকাশ হ্যাকের ঘটনায় ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে সামছুল ইসলাম এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নং-১৩৩৬)। বিকাশ হ্যাকের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে সোয়েব মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এরই জেরে গত ৩ ডিসেম্বর শিশুদের মাটি নিয়ে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে আখল মিয়ার পরিবার ও সামছুল ইসলামের পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ হয়। এতে আখল মিয়া ও তার ছেলে, পাশাপাশি সামছুল ইসলামের মা হাওয়া বেগম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত হন। ভুক্তভোগী হাওয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেদের মোবাইল হ্যাক করে বিকাশের টাকা নিয়ে গেছে। স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্যরা সমাধানের আশ্বাস দিলেও তা হয়নি। এ নিয়ে আখল মিয়ার পরিবার আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।” সামছুল ইসলামের ফুফাতো ভাই রুমান মিয়া জানান, এলাকায় আরও অনেকের টাকা এভাবে হ্যাক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বেড়া দেওয়া হয়েছে, এতে পরিবারটি চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।” সাইদুল ইসলামের স্ত্রী রানু বেগম অভিযোগ করেন, বিকাশ হ্যাকের ঘটনাই শত্রুতার মূল কারণ। তিনি বলেন, “ছোট বাচ্চারা খেলতে গেলে গালিগালাজ করা হয়। প্রবাসে থাকা এক ব্যক্তির প্রভাব খাটিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।” সামছুল ইসলাম বলেন, “আমরা শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করলেও মামলা রেকর্ড হয়নি, অথচ প্রতিপক্ষের মামলা মৌলভীবাজার মডেল থানায় গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত।” এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, সালিশে সোয়েব মিয়ার পরিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরে আপসে রাজি হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে মূল অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে খলিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তবে তৃতীয় পক্ষ জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি জটিল হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আলোচনার মাধ্যমে এখনও সমাধান সম্ভব। শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপু দাশ বলেন, “বিকাশ হ্যাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে শিশুদের খেলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।” এদিকে অভিযুক্ত সোয়েব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

