মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ফতেপুরে গণমানুষের ঢল: চেয়ারম্যান প্রার্থী মিছির আলীর মতবিনিময় সভায় উন্নয়ন ও জনসেবার অঙ্গীকার
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মিছির আলীর উদ্যোগে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক প্রাণবন্ত ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় শালিস ব্যক্তিত্ব পাখি মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভা পরিণত হয় উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও গণমানুষের প্রত্যাশা নিয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনার মঞ্চে। সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক, মুরব্বি, তরুণ প্রজন্ম, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীরা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, ন
াগরিক সেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মিছির আলী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত বিনয়ী ও আবেগঘন ভাষায় বলেন, তিনি জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার আগে জনগণের সন্তান। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, বরং এলাকার একজন সাধারণ মানুষ ও সেবক হিসেবেই দেখতে চান। তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমতে যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে আমাকে চেয়ারম্যান বলে নয়, আপনাদের মিছির আলী বলেই ডাকবেন। আমি পদ-পদবির মর্যাদা নয়, মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।” বক্তব্যে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করে ইউরোপের দুটি দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। চাইলে বিদেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা, এলাকার মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন তাঁকে আবার নিজের মাটিতে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, বিদেশের আরাম-আয়েশ আমাকে টানেনি। আমার টান আমার গ্রামের মানুষ, আমার ইউনিয়নের মানুষ। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ পৃথিবীতে আর কিছু নেই। তাই আমি বিদেশে নয়, নিজের মানুষের মাঝেই থাকতে চাই এবং তাদের সেবা করেই জীবনের বাকি সময় কাটাতে চাই। সভায় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সরকার থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে যে সম্মানী ও ভাতা পাবেন, তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় না করে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি মহল্লা এবং প্রতিটি পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। মিছির আলী বলেন, আমি পুরো ইউনিয়নের ঘরে ঘরে যেতে চাই। মানুষের সমস্যার কথা শুনতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ইউনিয়নের উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে চাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনবান্ধব নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কথার রাজনীতি করতে আসেননি; কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। মানুষ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চায়। আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই যে জনগণের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। আমার স্বপ্ন একটি আধুনিক, মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ ফতেপুর ইউনিয়ন গড়ে তোলা, যেখানে সকল মানুষ সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার পাবে। যোগ করেন তিনি। সভায় উপস্থিত অনেকেই মিছির আলীর বিনয়, আন্তরিকতা ও জনকল্যাণমুখী চিন্তাধারার প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং মানুষের কথা শোনার যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, তা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অনেকেই ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সভাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত লোকজনের ব্যাপক সাড়া এবং আগ্রহ দেখে আয়োজকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। সভা শেষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মিছির আলী সকলের দোয়া, পরামর্শ ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও জনবান্ধব ফতেপুর ইউনিয়ন গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে চান। স্থানীয়দের মতে, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়নের স্বপ্ন এবং একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির জনসেবার অঙ্গীকারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হয়ে উঠেছে। ফলে ফতেপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ আয়োজন ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

