প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
বৈষম্যের অভিযোগে জেলা পুলিশের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের
মৌলভীবাজার থেকে ॥ মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের আয়োজিত একাধিক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত সিলেট বিভাগের একমাত্র সংগঠন মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নকে আমন্ত্রণ না জানানোয় জেলা পুলিশের সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাংবাদিক ইউনিয়নের অভিযোগ, পুলিশ সুপারের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে নিবন্ধিত এই সংগঠনকে বাদ দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে, যা পেশাগত মর্যাদা ও সমান অধিকারের পরিপন্থী। পাশাপাশি পুলিশ সুপার যোগদানের পর
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো পরিচিতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি—এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। সংগঠনের নেতারা জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করা বহু সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ও সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণ দেওয়া হয় না। বরং নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিক নেতা ও পছন্দের মিডিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যেই দাওয়াত সীমাবদ্ধ থাকে। এতে করে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকছে না। একাধিক স্থানীয় সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মাঠে কাজ করি, জনগণের কথা তুলে ধরি। কিন্তু অফিসিয়াল কোনো প্রোগ্রাম হলে দেখি আমাদের বাদ দিয়ে কেবল পরিচিত কয়েকজনই সেখানে থাকেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত বঞ্চনা নয়—সংবিধানস্বীকৃত সংবাদ পেশার মর্যাদার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রেস কনফারেন্স বা সরকারি কর্মসূচি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; এগুলো রাষ্ট্র ও জনগণের। সেখানে যদি আগেভাগে তালিকা করে সীমিত কয়েকজনকে সুযোগ দেওয়া হয়, তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এক প্রবীণ সাংবাদিকের ভাষ্য, “সাংবাদিক নেতা অবশ্যই সম্মানিত, কিন্তু শুধু নেতা হলেই সাংবাদিকতা হয় না। যারা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেন, তারাও সমান সাংবাদিক।” অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের বৈষম্য চলতে থাকলে প্রকৃত তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে, স্বাধীন সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। সুশীল সমাজের মত, জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচিত সকল কর্মরত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা এবং সব প্রোগ্রামের তথ্য খোলা ও স্বচ্ছভাবে জানানো—যাতে কোনো গ্রুপিং বা পক্ষপাতের অভিযোগের সুযোগ না থাকে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) নবেল চাকমা বলেন, “সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে বসেন। আমরা প্রেসক্লাবকেই চিনি, এর বাইরে কোনো সাংবাদিক সংগঠন চিনি না।” অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি নতুন এসেছি। আমরা দুটি প্রেসক্লাবকে দাওয়াত করেছি। মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।” সব মিলিয়ে জনমনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কি সত্যিই সবার জন্য, নাকি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

