মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ডা. জোবায়দা রহমানের জন্মদিনে মৌলভীবাজারে দোয়া মাহফিল ও গণভোজ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিলেটের কৃতি সন্তান ডা. জোবায়দা রহমানের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে মৌলভীবাজারে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে এতিম শিশু, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে খাবার ও শিন্নি বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাদ আছর মৌলভীবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.) দরগাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপত
ি ও মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জলের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডা. জোবায়দা রহমান শুধু একজন খ্যাতিমান চিকিৎসকই নন, তিনি একজন মানবিক, শিক্ষিত ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও তিনি ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে পরিবার ও আদর্শের পাশে থেকেছেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাকির হোসেন উজ্জল বলেন, ডা. জোবায়দা রহমান একজন মেধাবী চিকিৎসক, মার্জিত ও মানবিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলেছেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে এতিম শিশু ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে আমরা মানবসেবার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে ডা. জোবায়দা রহমানের নীরব অবদান ও প্রেরণা জড়িয়ে আছে। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবন কামনায় আমরা আজকের এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছি। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়েছি। আয়োজকরা জানান, ১৯৭২ সালের ১৮ জুন জন্মগ্রহণকারী ডা. জোবায়দা রহমান এ বছর ৫৪ বছর পূর্ণ করে ৫৫তম বছরে পদার্পণ করেছেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং জাতীয় কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামারা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানবসেবা, দান-সদকা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের উচিত এতিম, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। মাহফিল শেষে এতিম শিশু, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে খাবার ও শিন্নি বিতরণ করা হয়। এ সময় শিশুদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দময় উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মুহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আহমদ মাহফুজ, মাহবুবুর রহমান শিপন, আমির মোহাম্মদ, শেখ সামাদুজ্জামানসহ জেলা যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির আবহে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এমন উদ্যোগ শুধু একজন ব্যক্তির জন্মদিন উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহিত করে।

