স্টাফ রিপোর্টার
জেলা পরিষদে বোমা হামলার হুমকি, জিডি ১৩২, প্রশাসকের দাবি ভিত্তিহীন!
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কথিত হুমকিকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শামীমা খন্দকার নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩২) করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান এই ঘটনাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বলে দাবি করেছেন। আর অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা স্থানীয় ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তুয়েল বলেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো হুমকি দেননি। একই প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্
মকর্তা নিরাপত্তা নিয়ে জিডি করেছেন, প্রশাসক অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করছেন ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে প্রশ্ন, জেলা পরিষদে আসলে কী ঘটেছিল? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জেলা পরিষদ একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বা আতঙ্ক তৈরি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসকের বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো তথ্য সামনে এলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় নয়, তথ্য-প্রমাণ ও দায়িত্বশীল তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তাঁর এমন অবস্থান জনমনে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি ঠেকানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকারের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে স্থানীয় ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা তোফায়েল আহমদ তুয়েল তাকে এবং জেলা পরিষদকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে সিইও বলেন, প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তুয়েল জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে এমন গুরুতর অভিযোগের পর আগে কেন সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি এ প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রতিবেদককে অফিসে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। এদিকে, নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে সিইও শামীমা খন্দকার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩২) করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল মৌখিক অভিযোগের পর্যায়ে নেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতেও বিষয়টি এসেছে। তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তুয়েল অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এদিকে বিল সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কথিত হুমকির অভিযোগটি ওই বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও এখন যাচাইয়ের বিষয়। তবে এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিডি নং-১৩২-এ ঠিক কী বলা হয়েছে? সেখানে হুমকির সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা অন্য কোনো প্রমাণের উল্লেখ আছে কি না? একই সঙ্গে প্রশাসকের ‘ভিত্তিহীন’ দাবির পেছনে কী তথ্য রয়েছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কারণ বোমা হামলার মতো গুরুতর হুমকির অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আবার অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণও খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এই জায়গাতেই প্রয়োজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার। কারও বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়া নয়; বরং প্রশাসক, সিইও ও অভিযুক্ত ঠিকাদার তিন পক্ষের বক্তব্য সামনে রেখে নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। জেলা পরিষদ একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই এর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ যেমন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করারও সুযোগ নেই। এখন সবার দৃষ্টি জিডি নং-১৩২, সংশ্লিষ্ট নথি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দিকে। অভিযোগ সত্য হলে সত্য সামনে আসুক, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও প্রকাশ্যে আসুক কারণ জেলা পরিষদকে ঘিরে এই বিতর্কে শেষ কথা হওয়া উচিত কোনো পক্ষের দাবি নয়, তথ্য-প্রমাণের সত্য।

