স্টাফ রিপোর্টার
৩৫০ ফুটের প্রকল্পে কাজ ১৮০ ফুট, তবু বিল উত্তোলনের অভিযোগ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০ নম্বর নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছিকরাইল গ্রামের ছিকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা এলেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লিসহ প্রতিদিন চলাচলকারী শত শত মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১ হাজার ফুট দীর্ঘ সড়কটির মধ্যে প্রায় ৬০০ ফুট অংশ অত্যন্ত নাজুক। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের জাত
ীয় নির্বাচনের আগে সড়কটির উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের এডিপি খাত থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ৩৫০ ফুট সড়কে ইট সলিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১৮০ ফুট কাজ করেই প্রকল্পের বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন নির্ধারিত কাজের পুরোটা সম্পন্ন হওয়ার আগেই কীভাবে প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা হলো? স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দীনের সংশ্লিষ্টতায় প্রকল্পটির কাজ আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে প্রকল্প কর্মকর্তার কাছ থেকে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ছিকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে সড়কটি শুধু বিদ্যালয় ও মসজিদে যাতায়াতের পথ নয়; নির্বাচনের সময়ও এটি এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। বর্ষাকালে সড়কের বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পরও যদি নির্ধারিত কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে বরাদ্দের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তারা দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জহির উদ্দিন কাছে প্রকল্পের বিল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অবশিষ্ট কাজ দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তাঁর ভাষ্য, চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে আর বিলের অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হবে না এ কারণে চেক দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত ৩৫০ ফুট কাজের বিপরীতে কেন প্রায় ১৮০ ফুট কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হলো এ প্রশ্নের উত্তর জানতে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের পরিমাপ, কাজের অগ্রগতি ও বিল প্রদানের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজের মান ও পরিমাণ যথাযথভাবে যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হোক এমন দাবিও জানিয়েছেন তারা।

