মৌলভীবাজারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি: সরকারের প্রতিশ্রুতি মিলেও বাস্তবায়ন নেই ১০ম গ্রেড—বৈষম্য দূরীকরণের দাবি
মৌলভীবাজারে আবারও ন্যায্য প্রাপ্যের দাবিতে কর্মবিরতিতে নেমেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। সরকারের পক্ষ থেকে বহুবার ১১তম গ্রেড সংশোধন করে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে দাঁড়
িয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেন জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে তারা ন্যায্য মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবি জানান। সরকার বলেছিল গেজেট হবে—কিন্তু আজও বাস্তবায়ন নেই অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ— “সরকারের ঘোষণায় স্পষ্ট বলা আছে—সকল ডিপ্লোমা পেশাজীবীদের ১০ম গ্রেড দেওয়া হবে। কিন্তু এই ঘোষণা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বহু বছর ধরে শুধু আশ্বাসই শুনছি। আমাদের প্রতি স্পষ্টভাবে একটি আন্তঃবিভাগীয় বৈষম্য চালু রয়েছে।” তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ১১তম গ্রেড সংশোধন করে ১০ম গ্রেড প্রস্তাবিত হয়েছিল, কিন্তু সিদ্ধান্তটি ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ভরসা—তবুও বঞ্চিত করা হচ্ছে কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের অভিযোগ, “হাসপাতালের ৭০-৮০ শতাংশ সেবা টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ওপর নির্ভর করে। সঠিক রিপোর্ট, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, সতর্কতা—সবই আমাদের কাজ। তারপরও আমরা প্রাপ্য সম্মান ও সুবিধা পাচ্ছি না।” তারা মনে করেন, এই বৈষম্যের কারণে তরুণ প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বৈষম্য দূরীকরণের জোর দাবি বক্তারা একযোগে দাবি জানান— “সরকারের ঘোষণাই যখন বলে ‘সকল ডিপ্লোমা ১০ম গ্রেড’, তাহলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কেন বঞ্চিত? এই আন্তঃবিভাগীয় বৈষম্য দূর করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হোক।” বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পেশাজীবীরা সতর্ক করে বলেন, এই শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি অব্যাহত সতর্ক বার্তা মাত্র। খুব দ্রুত দাবি বাস্তবায়িত না হলে ধাপে ধাপে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। দুই ঘণ্টা কর্মসূচি শেষে তারা কাজে ফিরলেও সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা আগের চেয়ে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
