মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার দণ্ড
ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ওপর সরকারিভাবে পরিচালিত দমন–পীড়নের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রীকে অনুপস্থিতিতেই বিচার করা হয়। তাঁর সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপিকেও একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল। আদালত রায়ে জানায়, বিতর্কিত সর
কারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ব্যাপক আন্দোলন দমনে যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার “মূল পরিকল্পনাকারী এবং প্রধান নকশাকার” ছিলেন শেখ হাসিনা। সেই দমনে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে টানা ১৫ বছরের ‘স্বৈরাচারী’ ক্ষমতার পতনের পর থেকে হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে আছেন। তিনি প্রকাশ্যে বা অনলাইনে কোথাও দেখা দিচ্ছেন না। তাঁর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এ রায়কে “ক্যাঙ্গারু কোর্টের সিদ্ধান্ত” বলে অভিহিত করেছে এবং দেশব্যাপী বিক্ষোভ ডাকার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দেশে নতুন করে সহিংসতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষত আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে। বর্তমান আইনে আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনেই অংশ নিতে পারবে না। মৃত্যুদণ্ডের রায় হবে জানতেন: হাসিনার ছেলে তানভীর চৌধুরী, ঢাকা থেকে রিপোর্টিং রায়ের পরপরই শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বলছেন, তিনি আগেই জানতেন কী রায় হবে এবং তাঁর ধারণা ছিল—হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার তাঁর মাকে রক্ষা করবে এবং তিনি সেখানে নিরাপদ আছেন। ঢাকার পরিবেশ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের বড় একটি ভোটব্যাংক ও সংগঠন রয়েছে এবং তারা এই রায় সহজভাবে মেনে নেবে না। ফলে রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও কিছুদিন চলবে, কারণ মামলার কয়েকশ পৃষ্ঠার নথি এখনও আদালতে পড়ে শোনানো হচ্ছে। যে আদালত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিচার করেছে, সেটিই এবার বিচার করল হাসিনার মঊদুদ আহম্মেদ সুজন, ঢাকা থেকে রিপোর্টিং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠিত হয় ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য। এই আদালত দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণ করলেও তা দ্রুতই রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বিতর্কিত এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। পরবর্তী দশকে আইসিটি জামায়াতে ইসলামীর এবং বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এবং কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো আদালতের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলে—স্বচ্ছতার অভাব, দ্রুত বিচার ও রাজনৈতিক টার্গেটিংয়ের অভিযোগ তোলে, যা হাসিনা সরকার অস্বীকার করে। ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁর সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আইসিটিকে পুনর্গঠন করে ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এই আদালতই বিচার করে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শককে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক নাটকীয় মোড়—একসময় যে আদালত বিরোধীদের বিচার করেছিল, আজ একই আদালত সেই সরকারের প্রধানকে বিচারের মুখোমুখি করেছে।
