মৌলভীবাজারবাসীর হৃদয়ে গভীর সম্মান রেখে বিদায় নিলেন পুলিশ সুপার এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন
মৌলভীবাজারের মানুষ যে পুলিশ সুপারকে শুধু প্রশাসনিক প্রধান নয়—একজন অভিভাবক, একজন ন্যায়পরায়ণ জনমানুষের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে পেয়েছিল, সেই এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা আজ ১৪ মাসের সফল দায়িত্ব পালন শেষে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় নিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করেছিলেন—নিষ্ঠা, মানবিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি
জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বদলে দেওয়া যায়। তাঁর কঠোর কিন্তু ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত, সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিকতা, এবং আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার প্রয়োগ মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের কার্যক্রমকে এনে দেয় নতুন গতি ও প্রাণ। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তাঁকে দেওয়া হয় এক গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ গার্ড অব অনার। এরপর সহকর্মী ও অধস্তন সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে অফিস প্রাঙ্গণ। বিদায়ের মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশের রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত, ফুলে মোড়ানো বিশেষ গাড়িতে উঠে দাঁড়ান তিনি। জেলা পুলিশের সদস্যরা ভালবাসার প্রতীক হিসেবে ফুলে সাজানো রশি টেনে গাড়িটি প্রধান ফটক পর্যন্ত নিয়ে যান—এক অনন্য, হৃদয়ছোঁয়া সম্মান, যা একজন যোগ্য, সৎ ও মানবিক পুলিশ প্রশাসকের জন্য মানুষের গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। এর আগে পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় তাঁকে দেয়া হয় বিদায় সংবর্ধনা। একই অনুষ্ঠানে নবাগত পুলিশ সুপারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জেলা পুলিশের সদস্যরা। উল্লেখ্য, বদলি সূত্রে জনাব এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা শিগগিরই যোগ দেবেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকা-এ। মৌলভীবাজারবাসী তাঁকে মনে রাখবে—একজন সৎ, দৃঢ়, মানবিক ও উন্নয়নমুখী পুলিশ সুপার হিসেবে, যাঁর নেতৃত্বে জেলাটি পেয়েছিল নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার উজ্জ্বল উদাহরণ।
