ইব্রাহীম হোসেন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
দেবহাটায় বাল্যবিয়েকে লালকার্ড, কিশোরীদের সঞ্চয়ে সরকারি প্রণোদনা
আর নয় বাল্যবিয়ে এগিয়ে যাব স্বপ্ন নিয়ে করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা সরকার দেবে ৪০০ টাকা এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় কিশোরী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বাল্যবিয়েকে লালকার্ড দেখিয়ে কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের মাঝে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ এবং সরকারি প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় সখীপুর ম
াধ্যমিক বিদ্যালয় পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কিশোরীদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি থেকে দূরে রেখে তাদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাজে আর্থিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়। ছয় শিক্ষার্থীর জমাকৃত সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৮০০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা হিসেবে তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৯ টাকা। এ সময় জানানো হয়, দেবহাটা উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ কিশোরী বাল্যবিয়ে না করার শপথ নিয়ে প্রকল্পটির সুবিধাভোগী হয়েছে। সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ তহিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা। উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃদুল সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিআরডিবি সাতক্ষীরার উপপরিচালক আফরুজ্জামান, দেবহাটা উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সন্দীপ মণ্ডল, শিক্ষার্থী তাহেরা ইসলামসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে পারলে বাল্যবিয়ের প্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আয়োজকেরা বলেন শিক্ষা সচেতনতা ও সঞ্চয় এই তিন শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিশোরীদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে কিশোরীদের শুধু বাল্যবিয়ে থেকে দূরে রাখাই নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে।

